রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা বাকপ্রতিবন্ধী নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপায় হত্যার ঘটনায় গাড়ির চালকের আসনে থাকা ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন কিশোরের পক্ষে আইনজীবী আলমগীর হোসেন জামিনের জন্য অধিকতর শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন মামুন জামিনের বিরোধিতা করেন।
শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে বলেন, ‘এ ঘটনায় সে দ্রুততম সময়ে বের হয়ে গেলে সমাজের জন্য নেগেটিভ ম্যাসেজ যাবে।’
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরেফীন ইসলাম তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর কিশোরের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী আলমগীর হোসেন। ওইদিন আংশিক শুনানি শেষে অধিকতর শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দেয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মোক্তাদীর ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন।
জি বাংলা ডেস্ক